সবাই ফিরে গেলেন শৈশবের স্কুলে

সবাই ফিরে গেলেন শৈশবের স্কুলে

‘এক বিকেলে গভীর মনোযোগের সাথে ক্রিকেট খেলছি। হঠাৎ পেছন থেকে মহিউদ্দিন খান স্যারের বাজখাঁই গলায় চমকে উঠলাম। “ফাজিলের ফাজিল, একটু আগে তোর এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। স্যাররা সবাই স্কুলে অপেক্ষা করছেন আর তুই এখানে জাভেদ মিয়াদাঁদ ফলাচ্ছিস।” স্যার বিদ্যুৎ বেগে আমাকে কোলে তুলে নিয়ে স্কুলের দিকে দৌড়াতে লাগলেন। স্যারের চোখে আনন্দ অশ্রু।’

স্কুলজীবনের প্রিয় শিক্ষক মহিউদ্দিন খানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চট্টগ্রামের কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ। যিনি এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে পঞ্চম হয়েছিলেন। অথচ অষ্টম শ্রেণিতে প্রায় ফেল করতে বসে ছিলেন তিনি। কৃতিত্বপূর্ণ এই অর্জনের পেছনে স্কুলশিক্ষকদের ভূমিকার কথা যখন বর্ণনা করছিলেন মিলনায়তনভর্তি দর্শকদের চোখ তখন টলমল।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ‘আইপিডিসি–প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক সম্মাননা ২০১৯’ উপলক্ষে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পপতি-পেশাজীবী—শরতের স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় সবাই যেন ফিরে যান ছাত্রজীবনে।

জীবনের লক্ষ্য কিংবা গতিপথ পাল্টে দেওয়ায় শিক্ষকদের স্মরণ করেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিরা। প্রিয় শিক্ষকদের অবদানের কথা বলতে গিয়ে কারও চোখে ছিল জল, কেউ হয়ে পড়েন স্মৃতিকাতর। কথামালায় বারবার ফিরে এসেছে শিক্ষকদের ‘বেতের বাড়ি’ কিংবা ‘বকাঝকা’। শিক্ষকদের সেই শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্নেহ আর ভালোবাসা এখনো ভুলতে পারেননি তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *